[bangla_day] [english_date] [bangla_date]
ই-পেপার   [bangla_day] [english_date]

২৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী উদ্ধোধন করবেন বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মানে ক্ষতিগ্রস্থ্য ১৩০ পরিবারের জন্য নির্মিত “স্বপ্নের ঠিকানা”
প্রকাশ: 22 October, 2018, 7:49 am |
অনলাইন সংস্করণ

২৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী উদ্ধোধন করবেন  বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মানে ক্ষতিগ্রস্থ্য ১৩০ পরিবারের জন্য নির্মিত “স্বপ্নের ঠিকানা”

কলাপাড়া নিউজ।।
১৩২০ মেঘাওয়াট থার্মাল পাওয়ারপ্লান্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০ পরিবার নতুন ঠিকানায় পূর্ণবাসিত হচ্ছেন। তাদের এই ঠিকানার নাম দেয়া হয়েছে ‘স্বপ্নের ঠিকানা’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৭ অক্টোবর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশে নবনির্মিত এ ঠিকানা উদ্বোধন করছেন।

কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড পায়রা ১৩২০ মেঘাওয়াট থার্মাল পাওয়ারপ্লান্ট প্রকল্প বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। এই প্রকল্পে এই ১৩০ টি পরিবারের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে এখন স্বপ্নের ঠিকানায় শেষ মুহূর্তে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের কাজ চলছে। পূর্ণবাসন কেন্দ্রের ঘরগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ, রঙ করা সম্পন্ন করে প্রস্তুত করা হয়েছে। সারিবদ্ধ ঘর, ঘরের সামনে ও পেছনে ফলদ-বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে, সুপেয় পানির জন্য বসানো হয়েছে গভীর নলকূপ। প্রকল্পের ভেতরে রয়েছে সুন্দর ফুলের বাগান। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, পাকা সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা। চারিদিকে তারকাটার বেড়া দেয়া হয়েছে। পুরো প্রকল্পটি সাজানো গোছানো।

প্রকল্পের জমি দেয়া গৃহবধূ সালমা বেগমের (৩০) জানান, তাদের ২ দশমিক ৪ একর জমি এই প্রকল্পে চলে গেছে। কয়েকদিন পর এখানে তাদের বসবাসের জন্য একটি ঘর দেয়া হবে। ঘরগুলো খুব সুন্দর। আগে এখানে কারেন্ট, রাস্তা ছিল না। স্কুল ছিল না। ছেলে মেয়েরা তেমন লেখাপাড়া করতে পারেনি। এখন এখানে স্কুল হয়েছে, বিদ্যুৎ আছে। এই জায়গায় বাজার মিলবে। অনেক সুবিধা হবে।

সালমার স্বামী জিয়াউর রহমান জানান, আগে জমির ধান বেচে চলতাম। এখানে তেমন লোকজন ছিল না। আর ব্যবসাও বুঝতাম না। কিন্তু এখন আমরা দুইজনেই ব্যবসা ভালো বুঝি এবং আমাদের এখন ভালো চলছে।

ওই এলাকার মনির হাওলাদার (৪০) তার ৫০ শতাংশ জমি এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য অধিগ্রহণ হয়েছে। দুই ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী পাঁচজনের সংসার তাদের। তিনি বলেন, ছোট একটা ছাপড়া ঘরে ছিলাম। এখন এই রকম সুন্দর একটা ঘর পামু তা স্বপ্নেও ভাবিনি। প্রধানমন্ত্রী আমাগো এই ঘর দিবে। আমরা অনেক খুশি।

নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শিপন আলী জানান, ১৩২০ মেঘাওয়াট থার্মাল পাওয়ারপ্লান্ট প্রকল্প-এর জন্য ১৩০টি পরিবারের ৯৮২ দশমিক ৭৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এই ১৩০টি পরিবারকে পূর্ণবাসনের জন্য ১৬ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে পূর্ণবাসন কেন্দ্র। এখানে নির্মাণ করা হয়েছে ১৩০টি ঘর। এর মধ্যে ১২শ’ বর্গফুটের ৮২টি ও এক হাজার বর্গফুটের ৪৮টি। ২০ শতাংশের বেশি যাদের ঘরের ভিটি ছিল তাদের জন্য ১২শ’ বর্গফুটের ঘর বরাদ্দ রয়েছে। প্রতিটি ঘরে তিনটি কক্ষ, একটি মাস্টার কক্ষ। একটি রান্না ঘর, একটি স্টোর রুম ও একটি ডাইনিং রুম রয়েছে এই ঘরে। প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ, বৈদ্যুতিক ফ্যান লাগানো হয়েছে। খনন করা হয়েছে বড় দুইটি পুকুর। পুরের পারে সান বাঁধানো ঘাট। বিশুদ্ধ পানির জন্য বসানো হয়েছে ৪২টি গভীর নলকূপ। পুনর্বাসিত পরিবারের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে একটি দোতলা স্কুল, দোতলা মসজিদ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও কমিউনিটি সেন্টার। প্রকল্পের ভেতরে চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ২ দশমিক ১৩ কিলোমিটার পাকা সড়ক। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় এ জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ৪ দশমিক ২৬ কিলোমিটার পাকা নর্দমা। প্রকল্পের ভেতরেই নির্মাণ হয়েছে কাঁচা বাজার ও সাতটি দোকান। জায়গা রাখা হয়েছে কবর স্থানের। এছাড়াও প্রকল্পটির চারিদিকে তারকাঁটার বেড়া দিয়ে বাউন্ডারি দেয়া হয়েছে। প্রধান প্রবেশপথে সার্বক্ষণিক পাহাড়ার ব্যবস্থা থাকবে এই স্বপ্নের ঠিকানা পুনর্বাসন কেন্দ্রে। এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি টাকা।

মো. শিপন আলী জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর এখানে পুনর্বাসিত হবেন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জায়গা জমি দেয়া এলাকার ১৩০টি পরিবার।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী জানান, আগামী ২৭ অক্টোবর বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালীর পায়রায় ১৩২০ মেঘাওয়াট থার্মাল পাওয়ারপ্লান্ট প্রকল্পের আওতায় ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্বোধনে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।

Spread the love




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদসমূহ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদকঃ দেলওয়ার হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ এস এম মোশারফ হোসেন মিন্টু
বার্তা সম্পাদকঃ
 
মোবাইল- 01711102472
 
Design & Developed by
  কলাপাড়ায় বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মানকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের উপর হামলা,অর্ধশত গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা।।   “পায়রা বন্দরের মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশকে আমরা পরিবহন সেবা দিতে চাই” নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী   পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মঙ্গলবার ৪টি আনলোডার মেশিন যুক্ত হয়েছে।। ৬৩ ভাগ কাজ সম্পন্ন   ঘুরে দাঁড়িয়েছে বন্দর   কলাপাড়ায় জমি অধিগ্রহন না করার দাবিতে কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন   ‘পায়রা সমুদ্র বন্দর বানিজ্য সম্ভাবনার নতুন দরজা”-পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের শ্লোগান   পায়রা বন্দরে ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে ২২ হাজার কোটির টাকার মধ্য মেয়াদী প্রকল্প   নতুন পায়রা সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ