[bangla_day] [english_date] [bangla_date]
ই-পেপার   [bangla_day] [english_date]

সমুদ্র বিজয়ের স্বপ্ন দেখছে চর হাবিবের স্কুল পড়ুয়া কিশোররা
প্রকাশ: 26 December, 2018, 4:02 am |
অনলাইন সংস্করণ

সমুদ্র বিজয়ের স্বপ্ন দেখছে চর হাবিবের স্কুল পড়ুয়া কিশোররা

মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)।।
সমুদ্র থেকে মাছ শিকার করে ফিরে আসা জেলেদের কাছে গভীর সমুদ্রের গতি প্রকৃতি, সামুদ্রিক বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির মাছের গল্প শুনে শুনে এখন সমুদ্র বিজয়ের স্বপ্ন দেখছে মাদরাসা ছাত্র অলি উল্লাহ (৯)। তাই পড়ালেখার অবসরে জেলে পল্লীতে জেলেদের কাছে বিভিন্ন মাছের জাত চেনা, ট্রলার চালানোর কৌশল শেখা,ঝড়ের সময় গভীর সমুদ্রে টিকে থাকার গল্প শুনে এখন তার সময় কাটছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার রামনাবাদ নদীর বুকে জেগে ওঠা চর হাবিবে দেখা হয় অলি উল্লাহর সাথে। স্থানীয়দের কাছে সে পরিচিত জানে অলি নামে। চর বালিয়াতলী কেরাতুল কোরান কওমী মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র অলি একই গ্রামের জেলে মন্টু হাওলাদারের ছেলে। আর্থিক দৈণ্যতায় বড় ভাই রিফাত (১৫) স্কুলের গন্ডি না পেরোতেই এখন কৈশোরেই পুরোদস্তুর জেলে। ছোট ভাই হাসান মাদরাসার ছাত্র। বয়স নয় হলেও এই বয়সে অলি আয়ত্ব করেছে নৌকা চালানো, জাল বোনার কাজ। পড়ালেখার অবসরে সে বাবার সাথেও গভীর সমুদ্রে যায় কখনও কখনও।

অলি উল্লাহর সাথে কথা হয় চর হাবিবে বসে। সে তখন প্রচন্ড রৌদ্রের মধ্যে জেলে নৌকায় নির্মাণ কাজ দেখছিলো একমনে। চরের বুকে একেকটি ট্রলার ভেড়ার সাথে সাথে সে দৌড়ে গিয়ে দেখছে কী মাছ পেয়েছে। নতুন জাতের কোন মাছ পেলে তা একমনে দেখছে। জানার চেষ্টা করছে মাছের নাম, কোথায় কীভাবে ধরা পড়লো। কোথায় এই মাছ পাওয়া যায়।

অলি জানায়, বইতে নীল সাগরের কথা পড়েছে। সাগরেরও নিচেও রয়েছে মাছ ও প্রকৃতির এক ভিন্ন জগত। নীল তিমি, হাঙ্গর, সামুদ্রিক নাম না জানা অনেক মাছের কথা লেখা রয়েছে বইতে। কিন্তু এগুলো কিছুই দেখা হয়নি তার। তাই লেখাপড়া শিখে সমুদ্রের এই বিশাল ভান্ডার আবিস্কারের ইচ্ছা তার।

অলির ভাষায়, আব্বায় ও বড় ভাই মাছ ধরে। আমি মাছ ধরমু না, মাছের জগত চিনমু। সাগরে সাগরে ঘুরমু এই সব জিনিস দেখতে। আমি জানি সমুদ্র বিজ্ঞানীদের অনেক পড়ালেখা করতে হয়। আমিও পড়ালেখা করমু। টিভিতে দেখছি বিশাল সাগরের দখল পেয়েছে বাংলাদেশ। আমি ওই সাগরে যেতে চাই, যেখানে এখনও অনেক সম্পদ আছে। যা দেশের উপকারে আইবে। কিন্তু বতদূর পড়তে পারমু তা আল্লায় জানে। আব্বায় তো কইছে পড়ামু। কিন্তু পরিবারের যে অবস্থা মাছ ধইর‌্যা আমারে কতদূর পড়াইতে পারবে এ দূশ্চিন্তা তাকে এই কেশোরেই ভাবাচ্ছে।

চর হাবিবে অলির বয়সী অনেক কিশোরের স্বপ্ন সমুদ্র বিজয়ের। সাগরের বুকে জেগে ওঠা চরে আশ্রয় নেয় জেলেদের মুখে সমুদ্র ও সমুদ্রের গতি প্রকৃতির গল্প শুনে এখন পড়া লেখা করতে চায়। মাছ ধরা না, মাছের জাত অবিস্কার, সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় তারা কাজ করতে চায়। বাপ-দাদার পেশা মাছ ধরা হলেও তারা উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন দেখছে।

কুয়াকাটার বুকে জেগে ওঠা চর বিজয় ঘুরে এসেছে কিশোর সাইদুল, জাহিদুল হক, মোনায়েম, তাওসফি, দিদার ও সুমন। জেলে পরিবারের এই সন্তানরা পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা শেষে একদিনের সফরে গিয়েছিলেন তারা চর বিজয়ে। তারা জানায়, সাগরে মধ্যে যে চর জেগে উঠেছে তাতে হয়তো একদিন ঘন বসতি হবে। এই চরের মতো সমুদ্রে অনেক মাছ, চর এখনও অনাবিস্কৃত রয়ে গেছে। তাদের স্বপ্ন বড় হয়ে মাছ ধরা না, উপক‚ল ও উপক‚লের সম্পদ রক্ষায় কাজ করবেন।

চর হাবিবের জেলে শামিম, বাহারুল ও হিরন ফরাজী জানায়, আমরা মাছ ধরি পেটের খিদায়। কিন্তু আমাগো পোলা-মাইয়াগো আমারা পড়ামু। মাছ ধরা রিস্কের কাজ। সাগরে ঝড় হইলে কত মানুষ যে মরে নিজের চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না।

ঝড়,বইন্যায় চোখের সামনে লাশ ভাইস্যা যাইতে দেখছি। আল্লায় বাচাইলে আমাগো পোলাগোরে মাছ ধরতে পাঠামু না। মাছ ধরা না, ওরা শিখবে সমুদ্রের কথা, মাছের জাত প্রকৃতির কথা। আগে জেলে পল্লীর ছেলেরা শুধুই মাছ ধরতো, এখন সময় পাল্টেছে। আমাগো অনেকের পোলা মাইয়া এখন স্কুল-কলেজে পড়ে। অলির মতো সবাই স্বপ্ন দেখে সমুদ্র বিজয়ের।

Spread the love




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদসমূহ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদকঃ দেলওয়ার হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ এস এম মোশারফ হোসেন মিন্টু
বার্তা সম্পাদকঃ
 
মোবাইল- 01711102472
 
Design & Developed by
  কলাপাড়ায় বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মানকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের উপর হামলা,অর্ধশত গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা।।   “পায়রা বন্দরের মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশকে আমরা পরিবহন সেবা দিতে চাই” নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী   পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মঙ্গলবার ৪টি আনলোডার মেশিন যুক্ত হয়েছে।। ৬৩ ভাগ কাজ সম্পন্ন   ঘুরে দাঁড়িয়েছে বন্দর   কলাপাড়ায় জমি অধিগ্রহন না করার দাবিতে কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন   ‘পায়রা সমুদ্র বন্দর বানিজ্য সম্ভাবনার নতুন দরজা”-পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের শ্লোগান   পায়রা বন্দরে ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে ২২ হাজার কোটির টাকার মধ্য মেয়াদী প্রকল্প   নতুন পায়রা সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ