[bangla_day] [english_date] [bangla_date]
ই-পেপার   [bangla_day] [english_date]

ভর্তার বিবর্তন
প্রকাশ: 10 December, 2018, 5:59 am |
অনলাইন সংস্করণ

ভর্তার বিবর্তন

ডেস্ক নিউজ।।

ভর্তা মানে দলাইমলাই। চিপে চিড়েচ্যাপ্টা করে ফেলা। ভর্তার সঙ্গে বাঙালি জাতির সুদূর ঐতিহ্যগত সম্পর্ক। ঠিক কবে থেকে বাঙালি জাতি ভর্তা খেতে শুরু করেছে তার কোনো নৃতাত্ত্বিক ইতিহাস রচিত হয়েছে কি না জানি না। তবে ধারণা করা যায়, হাজার বছর ধরেই বাঙালি ভর্তা খেয়ে আসছে। বিশেষ করে, শুঁটকি ভর্তা। মাছে-ভাতে বাঙালির শুঁটকির ভর্তা খাওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। এত মাছ শুকিয়ে শুঁটকি করা ছাড়া উপায় কী? তার সঙ্গে কৃষিভিত্তিক সমাজে স্বাভাবিকভাবেই যুক্ত হয়েছিল আলু ভর্তা, বেগুন ভর্তা। শুনলে আশ্চর্য হবেন, এখন মাংস ভর্তাও খাওয়া হয়।

ঠিক কতরকমের ভর্তা এখন বাংলাদেশের মানুষ খায় তার সঠিক তালিকা বের করাটা নিঃসন্দেহে একটু কঠিন। তবে সম্প্রতি এক জনপ্রিয় ভর্তা উৎসবে ১০৬ পদের ভর্তা উপস্থাপন করা হয়েছিল। প্রকাশনা সংস্থা অন্যপ্রকাশের মাজহারুল ইসলাম একটা বই বের করেছেন, ‘১০১টি ভর্তা’। সেই বইয়ের ভূমিকা লিখে দিয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন, ‘অন্যপ্রকাশের মাজহার ঠিক করল, নানান ধরনের ভর্তার ওপর সে একটা বই বের করবে। ভর্তার বইয়ের সুবিধা হচ্ছে, প্রমাণ সাইজের মাছের জন্য ছোটাছুটি করতে হবে না। বাংলাদেশের বেশিরভাগ ছোট মাছের জন্মই হয়েছে ভর্তা হবার জন্য। শুনলাম, বইমেলায় তার ভর্তার বই বের হবে। হেন ভর্তা নেই যার রান্নার বিবরণ তার বইয়ে নেই। ভোজনরসিক বাঙালি জাতির জন্যে ভর্তার জ্ঞানকোষ চলে আসছে। আর চিন্তা নেই। এতদিন শুনে এসেছি ভাতে-মাছে বাঙালি, এখন থেকে ভর্তা-ভাতে বাঙালি।’

আধুনিক মানুষ ভর্তার নানারকম আধুনিক সংস্করণ বের করেছে। এমন কিছু  নেই যা বাঙালি ভর্তা বানায়নি। মিষ্টিকুমড়ার ছিলকা, পটলের চামড়া, এমনকি লাউয়ের পাতা, বিচি পর্যন্ত ভর্তা বানিয়ে ফেলেছে। মাছের ভর্তা, শুঁটকির ভর্তা তো বিখ্যাতই। এখন চালু হয়েছে সবজি, পাতা-লতা, ফলমূলের ভর্তা। পটল, বেগুন, ঢেঁড়স, বরবটি, শিম, কফি, কচু এখন তরকারির চেয়ে ভর্তা করে খেতেই পছন্দ করে অনেক মানুষ। ভর্তার সুবিধা হচ্ছে তাতে সময় কম লাগে। সেদ্ধ করে নিয়ে কাঁচামরিচ, শুকনোমরিচ, পেঁয়াজ, আর একটু সরিষার তেল মেখে নিলেই হয়। স্বল্প সময়ে স্বল্প ব্যয়ে সুস্বাদু খাবার।

এ কথা সত্য, একসময় ভর্তা ছিল একটু নিম্ন আয়ের লোকজনেরই খাবার। বাংলাদেশের গরিব জনপদে ভর্তা ছিল ঠেকে কাজ চালানো। ঘরে কিছু নেই, যা কিছু আছে তা ডলে একটু ভর্তা বানিয়ে ফেলা। এখন ভর্তা পাচ্ছে ঐতিহ্য ও ‘ভদ্রলোকে’র মর্যাদা। দেশের নামিদামি রেস্টুরেন্টেও এখন বহুপদের ভর্তা রাখা হয।

Spread the love




সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদসমূহ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদকঃ দেলওয়ার হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ এস এম মোশারফ হোসেন মিন্টু
বার্তা সম্পাদকঃ
 
মোবাইল- 01711102472
 
Design & Developed by
  কলাপাড়ায় বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মানকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের উপর হামলা,অর্ধশত গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা।।   “পায়রা বন্দরের মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশকে আমরা পরিবহন সেবা দিতে চাই” নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী   পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মঙ্গলবার ৪টি আনলোডার মেশিন যুক্ত হয়েছে।। ৬৩ ভাগ কাজ সম্পন্ন   ঘুরে দাঁড়িয়েছে বন্দর   কলাপাড়ায় জমি অধিগ্রহন না করার দাবিতে কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন   ‘পায়রা সমুদ্র বন্দর বানিজ্য সম্ভাবনার নতুন দরজা”-পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের শ্লোগান   পায়রা বন্দরে ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে ২২ হাজার কোটির টাকার মধ্য মেয়াদী প্রকল্প   নতুন পায়রা সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ