[bangla_day] [english_date] [bangla_date]
ই-পেপার   [bangla_day] [english_date]

নতুন স্বপ্ন দেখছে কলাপাড়ার রামনাবাদ নদের তীরের শিক্ষিত যুবারা
প্রকাশ: 5 December, 2018, 11:10 am |
অনলাইন সংস্করণ

নতুন স্বপ্ন দেখছে কলাপাড়ার রামনাবাদ নদের তীরের শিক্ষিত যুবারা

মিলন কর্মকার রাজু।।
শৈশব-কৈশোরে বেড়ে ওঠা প্রিয় জন্মভূমি ছেড়ে চলে যেতে হবে আর কিছুদিনের মধ্যে। প্রিয় স্কুল,খেলার মাঠে আর যাওয়া হবে না মাষ্টার্সের ছাত্রী শারমিন সুলতানা শিল্পির। সোদা মাটির গন্ধ গায়ে নিয়ে রামনাবাদ নদের তীরে বেড়ে ওঠা শিল্পির শেষ গন্তব্য কোথায় হবে এখনও জানা হয়নি। কিন্তু পরিবারের পাশে দাড়াতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ শিল্পি অতীত স্মৃতিকে ভুলে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে এখনই কর্মযজ্ঞে ঝাপিয়ে পড়তে চায়।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের এগার নং হাওলা গ্রামের এ শিক্ষার্থীর মতো চার সহস্রাধিক পরিবারের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মক্ষম যুবারা এখন স্বাবলম্বী হতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহন করছে। অথচ এরা কিছুদিন আগেও কেউ নদীতে মাছ ধরতো, কেউবা দিনমজুর কিংবা মাঠে চাষ করতো। তাদের সবারই লক্ষ্য অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হওয়া এবং শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা সমুদ্র বন্দর নির্মাণে চারটি ইউনিয়নে প্রায় সাত হাজার একর জমি অধিগ্রহনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ জমি অধিগ্রহনে ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারের চার হাজার দুইশ নারী-পুরুষকে ক্ষতিপূরণ দেয়াসহ দেশে এবারই প্রথম ক্ষতিগ্রস্থ্য প্রতিবার থেকে একজন করে সদস্যকে ৩৫ টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মক্ষম ও স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিয়েছে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ। শিল্পীর মতো ১৩৬ সদস্য প্রথম দফার তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে গত সোমবার (৩ ডিসেম্বর) সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে।

লালুয়া ইউনিয়নের এ শিল্পীর মতো জমি অধিগ্রহনে ক্ষতিগ্রস্থ্য কলেজ ছাত্রী মাসুমা আক্তার,মারুফা, সালমা জাহান, তহমিনা আক্তার, মুক্তা খানম, খাদিজা আক্তার, ছালমা জাহান, নাবিলা তাবাসসুম ও জান্নাতুল ফেরদৌস রিয়া। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এ সম্পন্ন করেছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্স। তাঁদের সাথে কথা হয় তাঁদের দেখা ভবিষত স্বপ্ন নিয়ে।

পটুয়াখালী সরকারি কলেজের মাষ্টার্সের ছাত্রী শারমিন সুলতানা শিল্পি বলেন, পায়রা সমুদ্র বন্দর নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহন করতে তাদের তিন ও ছয় ধারা নোটিশ দেয়া হয়েছে। সাত ধারা নোটিশ পেলেই তাদের চাড়তে হবে ছোট থেকে বেড়ে ওঠা প্রিয় ঘরটি। আর সাঁতার কাটা হবে না বাড়ির পুকুর। খেলা হবে না স্কুল মাঠে। ধান ক্ষেতের মাঝ দিয়ে বিকালের অবসরে হেঁটে বেড়ানো হবে না। তাদের মতো এগার নং হাওলা গ্রামের মানুষ এ জমি অধিগ্রহনের কারণে ঘর ছাড়তে হবে।

তার ভাষায়,“ সরকার জমি নিলেও তাদের পুনর্বাসন করার জন্য যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে তাতেই খুশি। কম্পিউটার প্রশিক্ষণ পাওয়ায় এখন চাকুরী না পেলেও গ্রামের কোন বাজারে দোকান দিয়ে পরিবার নিয়ে চলতে পারবেন। নিজে লেখাপড়া শিখেছেন। সরকার প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছে। ৩০ হাজার টাকাও পেয়েছেন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে। এখন একটি কম্পিউটার কিনে ভবিষত গড়ায় নিয়োজিত হবো।

শিল্পি বলেন, তার ভাই নিপু তালুকদার ঢাকায় মাষ্টার্সের ছাত্র। ছোট বোন সাজেদা সুলতানা এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। পিতা আফজাল হোসেন একজন কৃষক। জমি অধিগ্রহনে তাদের চাষের জমি হয়তো থাকবে না। সরকার জমির মূল্যও পরিশোধ করবে। কিন্তু এই কম্পিউটার প্রশিক্ষণ পাওয়ায় এখন হয়তো আর বেকার থাকতে হবে না।
বড় পাঁচ নং গ্রামের এইচএসসি পাশ করা মাসুমা আক্তার বলেন, বড় বোনের বিয়ে হলেও ভাই জহিরুল ইসলাম এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ছোট বোন কল্পনা পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। পরিবারের উপার্জণ বলতে চাষের জমি। পায়রা বন্দর নির্মানে তাদের জমি অধিগ্রহন হবে। সরকার জমি অধিগ্রহনের আগেই তাকে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করার সুযোগ করে দেয়ায় সে এখন খুশি।

একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত্য প্রতি পরিবার থেকে একজন করে সদস্যকে কম্পিউটার, মটর ড্রাইভিং ও রাজমিস্ত্রির প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ৩ ডিসেম্বর পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর মো. জাহাঙ্গীর আলম এ প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেণ।

পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ’র চেয়ারম্যান কমডোর মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পায়রা বন্দরে ২০২১ সালের মধ্যে ২২ হাজার কোটি টাকার মধ্যমেয়াদী প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে। তাই জমি অধিগ্রহনে ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারের শিক্ষিত ও কর্মক্ষম নারী-পুরুষকে প্রশিক্ষণ দেয়ার বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণ নিয়ে এ শিক্ষিত যুবারা পায়রা বন্দরে উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিবে। তাই প্রথম ধাপে তিনমাস মেয়াদী ১৩৬ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী তিন বছরে ৪২০০ জন নারী-পুরুষকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারকে শুধু প্রশিক্ষণই নয়, পূরর্বাসনের জন্য ৩৫০০ পরিবারকে পাকা ঘর বরাদ্দ দেয়া হবে। যার নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।

তিঁনি বলেন, পায়রা বন্দরে ১২ টি কম্পোনেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। বিমান বন্দর, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, ভাঙ্গা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত ১৮০ কিঃমিঃ রেল লাইন , শিপ ইয়ার্ড ও শিপ মেরামত কারখানা তৈরি, ট্যুরিজম সুবিধাদি নির্মাণ, পেট্রোলিয়াম রিফাইনারী প্লান্ট স্থাপন ও এলএনজি টার্মিনাল নির্মান করা হবে। এ সমস্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে এ ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় বিশাল শিক্ষিত ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

Spread the love




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদসমূহ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদকঃ দেলওয়ার হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ এস এম মোশারফ হোসেন মিন্টু
বার্তা সম্পাদকঃ
 
মোবাইল- 01711102472
 
Design & Developed by
  কলাপাড়ায় বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মানকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের উপর হামলা,অর্ধশত গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা।।   “পায়রা বন্দরের মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশকে আমরা পরিবহন সেবা দিতে চাই” নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী   পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মঙ্গলবার ৪টি আনলোডার মেশিন যুক্ত হয়েছে।। ৬৩ ভাগ কাজ সম্পন্ন   ঘুরে দাঁড়িয়েছে বন্দর   কলাপাড়ায় জমি অধিগ্রহন না করার দাবিতে কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন   ‘পায়রা সমুদ্র বন্দর বানিজ্য সম্ভাবনার নতুন দরজা”-পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের শ্লোগান   পায়রা বন্দরে ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে ২২ হাজার কোটির টাকার মধ্য মেয়াদী প্রকল্প   নতুন পায়রা সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ