[bangla_day] [english_date] [bangla_date]
ই-পেপার   [bangla_day] [english_date]

ঝুঁকিপূর্ণ ২৯ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন
প্রকাশ: 13 October, 2018, 8:00 am |
অনলাইন সংস্করণ

ঝুঁকিপূর্ণ ২৯ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি।।

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার ১৪১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৯টির ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে কিছু বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির অথবা দুই শিফটে পাঠদান করা হয়। এ অবকাঠামো সংকট পাঠশালার শুরুতেই শিশুদের শিক্ষাদানের পথে বড় বাধা। একই সঙ্গে তাদের মনেও বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,কাকনী ইউনিয়নের গোয়াতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিত্যক্ত ভবনের পশ্চিম পাশে একটি কক্ষকে শিক্ষকরা অফিস হিসেবে ব্যবহার করছেন। ছাত্র-ছাত্রীরা পূর্ব ও পশ্চিম পাশে দুটি টিন শেড অস্থায়ী ঘরে ক্লাস করছে। এ অবস্থার মধ্যে পড়াশোনা করছে দুই শতাধিক শিশু।
শিক্ষকরা জানান, শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ঠিকমত ক্লাস করানো যায় না। এ কারণে স্কুলে শিক্ষার্থী উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে। সামর্থ্যবানরা তাদের শিশুদের কিন্ডারগার্টেনে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান জানান, অফিসকক্ষের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণেও সমস্যা হচ্ছে। টিন শেড শ্রেণিকক্ষগুলোয় ফ্যান নেই। তবে শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ভবনের টেন্ডার হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে।

একই ধরনের সংকটে আছে কামারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় দুই কক্ষের একটি ভবনে কোনো রকমে পাঠদান চলছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল ওয়াহাব সরকার বলেন, পুরনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারের মাধ্যমে বিক্রি করে দিয়েছে। এখন দুই কক্ষবিশিষ্ট ভবনে দুই শিফটে ৩৮৩ শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে। শিক্ষকরা সিঁড়ির নিচের অংশটুকু অফিস হিসেবে ব্যবহার করছেন। কখনো খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নিতে হয়।

উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উল্লিখিত দুটি বিদ্যালয়ই নয়, তারাকান্দা উপজেলায় ১৪১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৯টির ভবন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়গুলো হলো কাকনী, পশ্চিম ঢাকিরকান্দা, রামপুর, বালিখাঁ, দাদরা, পাগুলী, তালদিঘী, চাড়িয়া, রাউতনবাড়ি, বাহেলা, তারাটি (উত্তর), পাথারিয়া, বারইপাড়া, দিস্তা, চড়ের ভিটা, ভাঙ্গার পাড়, লোনহালা, টিউকান্দা, ভালকি, রায়জান, গোপালদাড়িকেল, কামারগাঁও, রাজদারিকেল, পঙ্গুয়াই, শিকারপুর, কাকুরা, পানিহরি, গোয়াতলা, মাসকান্দা শেখ রাসেল ও হাজী গিয়াস উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ঝুঁকিপূর্ণ এসব বিদ্যালয় ভবনের ছাদ ও দেয়ালের আংশিক ধসে পড়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক বিদ্যালয়ের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্ষাকালে আকাশে মেঘ জমলেই স্কুল ছুটি দিতে হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন বলেন, এখানে ২৯টি বিদ্যালয় ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক। কোনো কোনো স্কুলে একটি ভবন থাকলেও তা ঝুঁকিপূর্ণ, আবার কোথাও দুটি ভবন থাকলেও একটি পরিত্যক্ত। গত বছরই জরুরি ভিত্তিতে ২৬টি স্কুলের তালিকাসহ মোট ৬৯টি স্কুলের জন্য নতুন ভবন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে চারটি স্কুল ভবনের জন্য টেন্ডার হয়েছে। খুব দ্রুত ভবনগুলোর কাজ শুরু করার জন্য আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে অনুরোধ করেছি। এসব স্কুলের অবস্থা এতটাই নাজুক যে আমাদের লজ্জা লাগে!

Spread the love




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদসমূহ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদকঃ দেলওয়ার হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ এস এম মোশারফ হোসেন মিন্টু
বার্তা সম্পাদকঃ
 
মোবাইল- 01711102472
 
Design & Developed by
  কলাপাড়ায় বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মানকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের উপর হামলা,অর্ধশত গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা।।   “পায়রা বন্দরের মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশকে আমরা পরিবহন সেবা দিতে চাই” নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী   পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মঙ্গলবার ৪টি আনলোডার মেশিন যুক্ত হয়েছে।। ৬৩ ভাগ কাজ সম্পন্ন   ঘুরে দাঁড়িয়েছে বন্দর   কলাপাড়ায় জমি অধিগ্রহন না করার দাবিতে কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন   ‘পায়রা সমুদ্র বন্দর বানিজ্য সম্ভাবনার নতুন দরজা”-পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের শ্লোগান   পায়রা বন্দরে ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে ২২ হাজার কোটির টাকার মধ্য মেয়াদী প্রকল্প   নতুন পায়রা সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ