[bangla_day] [english_date] [bangla_date]
ই-পেপার   [bangla_day] [english_date]

কলাপাড়ায় ৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত
প্রকাশ: 20 December, 2018, 7:43 am |
অনলাইন সংস্করণ

কলাপাড়ায় ৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

মিলন কর্মকার রাজু ।।
মাত্র ১২ দিনের আই সি টি প্রশিক্ষণ পেয়েছেন শিক্ষক মো. সোহেল মিয়া। এই প্রশিক্ষণ পেয়ে শুধু ল্যাপটপ অন ও অফ করা ছাড়া কিছু ফাইল এবং ফোল্ডার খোলা শিখেছেন। কিন্তু তাঁর উপর দায়িত্ব দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্ট (বিষয়বস্তু) তৈরি করে পাঠ্য পুস্তকের ধারণাসমূহ আরও আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করে শেখানো। এজন্য শিক্ষা অফিস থেকে গত বছর ডিসেম্বর মাসে বিদ্যালয়ে একটি ল্যাপটপও দেয়া হয়েছে। কিন্তু দেয়া হয়নি প্রজেক্টর। এ কারণে কন্টেন্ট তৈরিতো দূরের কথা গত এক বছরে কিছুই শেখানো হয়নি শিক্ষার্থীদের। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার দক্ষিন দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ডিজিটাল শিক্ষার চিত্র এটি। একই চিত্র উপজেলার ৯০ ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে জানা যায়, উপজেলার ৭১টি প্রাথমিকে গত বছর ডিসেম্বর মাসে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়েছে। শুধু ল্যাপটপ বিতরণ করলেও বিষয়বস্তু প্রদর্শণের জণ্য প্রজেক্টর সরবরাহ করা হয়নি। করা হয়নি মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম। এ কারণে শুধু নামেই শিক্ষা ডিজিটালকরণ প্রক্রিয়া শুরু হলেও খোদ ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরিতে এখনও অন্ধকারে রয়েছে উপক‚লের অধিকাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
কলাপাড়ার একাধিক বিদ্যালয় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কোন বিদ্যালয় টিনসেড, অর্ধভঙ্গ। কোন বিদ্যালয় আলীশান দ্বিতল ভবন, অথচ ছাত্র-ছাত্রী নাম মাত্র। কোন বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ । আবার একাধিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি তিন-চারশ ছাড়িয়ে এখন তাদের ক্লাস রুম সংকট। এসব বিদ্যালয়ের অধিকাংশেরই নেই বিদ্যুত সংযোগ। শিক্ষক সংকটের সাথে রয়েছে বসার বেঞ্চ, টেবিল সংকট। কোন কোন বিদ্যালয়ে অফিস রুম থাকলেও নেই প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র।
এক তথ্যে জানা যায়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক প্রণীত প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের (প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি) আলোকে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ক ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্ট তৈরি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থাপন এই ডিজিটাল শিক্ষা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। পাঠ্যপুস্তকের ধারণাসমূহ আরো আকর্ষণীয় ও সহজবোধ্য করতে বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ছবি, চার্ট, ডায়াগ্রাম, অডিও, ভিডিও সহ মাল্টিমিডিয়া উপকরণসমূহ সংযোজন করে এ্যানিমেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিষয়ভিক্তিক শিক্ষক, প্রশিক্ষক, প্যাডাগোজি বিশেষজ্ঞ, এডুকেশন সেক্টর বিশেষজ্ঞ, চাইল্ড সাইকোলজিস্ট, কালার, প্রোগ্রামিং ও এনিমেশন বিশেষজ্ঞদের সরাসরি অংশগ্রহণ ও মতামতের ভিত্তিতে প্রতিটি অধ্যায়ের কাংখিত শিখনফলের আলোকে এই ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্টসমূহ প্রস্তুত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদান পদ্ধতি ও বিষয়বস্তু আকর্ষণীয় ও আনন্দময় করে তোলাই এই ডিজিটাল শিক্ষা কন্টেন্ট এর মূল উদ্দেশ্য। এতে শিক্ষার্থীরা মুখস্থ্য বিদ্যার পরিবর্তে বিকশিত চিস্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি এবং অনুসন্ধিৎসু মননের অধিকারী হয়ে উঠবে। কিন্তু উপক‚লের বিদ্যালয়গুলোতে এ ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম চলছে কাগজে কলমে।
দক্ষিণ দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মেহেরুন্নেছা জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ২০৫ জন। গত বছর শিক্ষার্থী ছিলো ২৩১ জন। বিদ্যালয়ের আধুনিক ভবন বিদ্যুত সুবিধা সবই আছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের পাকাভবন থাকলেও ডিজিটাল ক্লাস রুম নেই। আড়াই বছর আগে সহকারি শিক্ষক মো. সোহেল মিয়া ১২ দিনের আই সি টি প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। গত বছর পেয়েছেন ল্যাপটপ। এখনও পাননি প্রজেক্টর।
আই সি টি প্রশিক্ষণ নেয়া শিক্ষক মো. সোহেল মিয়া জানান, যা শিখছি তা প্রাকটিস করতে না পেরে এখন ভুলে গেছি। তাছাড়া ল্যাপটপ পেলেও প্রজেক্টর পাইনি। তাহলে শিক্ষার্থীদের কি শেখাবো।
এ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মোসাঃ শারমিন জানায়, “ স্কুলে ল্যাপটপ পাইছে দেখছি। কিন্তু হেইডা দিয়া আমাগো এ্যাহনও পড়ায় নায়। এইডা (ল্যাপটপ) দিয়া আমরা ছবি দেইখ্যা পড়তে পাড়মু স্যারেরা কইছে। কিন্তু সব মেশিন (প্রজেক্টর) এখনও স্কুলে না পাওয়ায় আমাগো ডিজিটাল ক্লাস শুরু হয়নি।”
একই বিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার জানায়, “ছবি দেইখ্যা ল্যাহাপড়া শিখাইলে পড়ালেখা খুব সহজে মুকস্থ্য হয়। মনে থাহে। আমরা ক্লাস ফাইভে পড়ি কিন্তু এ্যাহনও এই ক্লাস করতে পারি নাই।” একই কথা বলেন উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
লালুয়া ইউনিয়নের লালুয়া বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আহমেদ জানান, বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষকই আই সি টি প্রশিক্ষণ পায়নি। একটি ল্যাপটপ দেয়া হলেও প্রজেক্টর দেয়া হয়নি। আর ল্যাপটপ অপারেটিং না জানায় তাঁরা কিভাবে ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন এ নিয়ে চিন্তিত।
ধুলাসার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের আধুনিক ভবন, বিদ্যুত সুবিধা সবই আছে। আই সি টি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষকও আছেন। কিন্তু প্রজেক্টরের অভাবে ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে পারছেন না।
কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জালাল আহমেদ বলেন, সরকার প্রতিটি স্কুলই আধুনিকায়নের উদ্যেগ নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি স্কুলে ডিজিটাল ক্লাসরুমকরা এবং স্কুলগুলোতে প্রজেক্টর সরবরাহ করা হবে। এছাড়া যেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখনও আই সি টি প্রশিক্ষণ পায়নি তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

Spread the love




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদসমূহ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদকঃ দেলওয়ার হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ এস এম মোশারফ হোসেন মিন্টু
বার্তা সম্পাদকঃ
 
মোবাইল- 01711102472
 
Design & Developed by
  কলাপাড়ায় বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মানকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের উপর হামলা,অর্ধশত গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা।।   “পায়রা বন্দরের মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশকে আমরা পরিবহন সেবা দিতে চাই” নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী   পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মঙ্গলবার ৪টি আনলোডার মেশিন যুক্ত হয়েছে।। ৬৩ ভাগ কাজ সম্পন্ন   ঘুরে দাঁড়িয়েছে বন্দর   কলাপাড়ায় জমি অধিগ্রহন না করার দাবিতে কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন   ‘পায়রা সমুদ্র বন্দর বানিজ্য সম্ভাবনার নতুন দরজা”-পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের শ্লোগান   পায়রা বন্দরে ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে ২২ হাজার কোটির টাকার মধ্য মেয়াদী প্রকল্প   নতুন পায়রা সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ