[bangla_day] [english_date] [bangla_date]
ই-পেপার   [bangla_day] [english_date]

কলাপাড়ায় সুঁই সুঁতোর আল্পনায় চলে মারিয়ার শিক্ষা জীবন
প্রকাশ: 3 November, 2018, 7:04 am |
অনলাইন সংস্করণ

কলাপাড়ায় সুঁই সুঁতোর আল্পনায় চলে মারিয়ার শিক্ষা জীবন

মিলন কর্মকার রাজু।।
ছোট্র হাতের আঙ্গুলে অজ¯্র সুঁইয়ের ফুঁটো। কিন্তু তারপরও এক মনে রং-বেরঙের সুতোর আল্পনার কাঁথায় ফুঁটিয়ে তুলছে নকশা। নয় বছরের মারিয়া সুঁই সুঁতোর বন্ধনে ফুঁটিয়ে তুলছে বাঙালীর ইতিহাস-ঐতিহ্য ও হারিয়ে যাওয়া গ্রামীন সংস্কৃতি। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী মারিয়ার এখন সহপাঠীদের খেলা-আনন্দে সময় কাটানোর কথা থাকলেও পারিবারিক দৈন্যতায় সুঁই সুঁতোর আল্পনায় চলে এখন তার শিক্ষা জীবন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া গ্রামের শ্রমজীবি নেছারউদ্দিন হাওলাদারের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মোসা. মারিয়া সবার ছোট। ইটবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এ ছাত্রীর স্কুল ও পড়াশোনার অবসরে মায়ের সাথে নকশি কাঁথা সেলাই করে চলে শিক্ষা ও সংসার খরচ। ছোট্র বয়সেই এখন সে নিপুন কারিগর।
সরেজমিনে রোববার দুপুরে মারিয়াদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি ছুটিতে স্কুল বন্ধ থাকায় ঘরের বাড়ান্দায় কাঁথা সেলাইয়ে ব্যস্ত সে। তার সহপাঠীরা যখন ঘরের উঠানে গোল্লাছুট,বাড়ির পুকুরে সাঁতার কেটে হাসি আনন্দে ব্যস্ত তখন একমনে কাঁথায় এঁকে চলছে গ্রামীন প্রকৃতি।
মারিয়া জানায়, মায়ের কাঁথা সেলাই করা দেখতে দেখতে ক্লাস ওয়ান,টুতে পড়া অবস্থায়ই সুঁই-সুতো নিয়ে গায়ের জামা, বিছানার চাদরে ফুল,ফল আঁকতাম। স্কুলে বিভিন্ন দিবসে নানা ধরণের ছবি আঁকতে আঁকতে শিখে ফেলেছে নকশি কাঁথা সেলাই। এখন স্কুল বন্ধ তাই এই কাঁথা সেলাই করছি।
মারিয়ার মা হালিমা বেগম জানায়, রান্না থেকে শুরু করে গৃহের সবকাজই শিখে ফেলেছে ও (মারিয়া)। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে, স্কুলের ছুটিতে ঘরে বসে সেলাই করে এই কাঁথা। বিভিন্ন গ্রাম থেকে লোকজন আসে কাঁথা সেলাইয়ের জন্য। কারো ইচ্ছা পাতলা কাঁথা,কারো ইচ্ছা মোটা কাঁথা। তবে নকশি কাঁথা সেলাই হয় খুবই কম। কেননা একেকটি কাঁথা সেলাই করতে এক মাসেরও বেশি সময় লেগে যায়।
তিনি বলেন বড় ছেলে শামিম এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। ছোট ছেলে হাসান অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। মারিয়া চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। কিন্তু ওদের বাবা কখনও খালে মাছ ধরে,কখনও মাটি কাটে। মাঝে মধ্যেই কাজ না থাকলে ঘরে বেকার বসে থাকে। দারিদ্রতার মধ্যে তিন সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য পরিবারে একটু আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে চার বছর ধরে কাঁথা সেলাইয়ের কাজ করছেন। মাসে পাতলা কাঁথা হলে আট থেকে দশটি, মোটা কাঁথা হলে দুই-তিনটি ও নকশি কাঁথা হলে একটির বেশি সেলাই করা যায় না। মারিয়া একটু বড় হওয়ার পর এখন নকশি কাঁথার আল্পনাও ওই আঁকে। বয়স হয়ে গেছে। রাতে ঠিকমতো চোখেও দেখেন না। সুঁই গাততেও কষ্ট হয়। তাই নকশা কাঁথা মারিয়াই বেশি সেলাই করে।
বয়সে ছোট হলেও মারিয়া এই বয়সে জেনে গেছে বিভিন্ন ধরণের কাঁথার নাম। মারিয়ার ভাষায়, চলমান সেলাই( সাদামাটা কাঁথা), লহরী কাঁথা,আনারসি কাঁথা, বাঁকা সেলাই কাঁথা, সুজনি কাঁথা, পদ্ম নকশা, সুর্য নকশা, চন্দ্র নকশা, চাকা নকশা,স্বস্তিকা নকশা কাঁথা সেলাই করতে পারি। এছাড়াও গুজনি কাঁথা,রুমাল কাঁথা, আসন কাঁথা, আর্শিলতা কাঁথা সেলাই শিখেছে। কিন্তু সময় হয়না এগুলো সেলাই করা। এছাড়া এই কাঁথা তৈরি করতে খরচও অনেক বেশি।
মারিয়া জানায়, লেখাপড়া করে বড় চাকুরি করা ও ছবি আঁকা শিল্পী হওয়ার ইচ্ছা। কিন্তু পারিবারিক দৈন্যতায় কতোটা লেখাপড়া করতে পারবে এ দূশ্চিন্তা এই বয়সেই তাকে ঘিরে রেখেছে। ক্লাসে মেধাবী ছাত্রী হলেও বইয়ের শিক্ষার চেয়ে তার এখন বেশি সময় কাটে সুঁই সুঁতোর বন্ধনে নকশি কাঁথায় চিত্র ফুঁটিয়ে তুলতে।

Spread the love




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদসমূহ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদকঃ দেলওয়ার হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ এস এম মোশারফ হোসেন মিন্টু
বার্তা সম্পাদকঃ
 
মোবাইল- 01711102472
 
Design & Developed by
  কলাপাড়ায় বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মানকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের উপর হামলা,অর্ধশত গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা।।   “পায়রা বন্দরের মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশকে আমরা পরিবহন সেবা দিতে চাই” নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী   পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মঙ্গলবার ৪টি আনলোডার মেশিন যুক্ত হয়েছে।। ৬৩ ভাগ কাজ সম্পন্ন   ঘুরে দাঁড়িয়েছে বন্দর   কলাপাড়ায় জমি অধিগ্রহন না করার দাবিতে কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন   ‘পায়রা সমুদ্র বন্দর বানিজ্য সম্ভাবনার নতুন দরজা”-পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের শ্লোগান   পায়রা বন্দরে ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে ২২ হাজার কোটির টাকার মধ্য মেয়াদী প্রকল্প   নতুন পায়রা সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ