[bangla_day] [english_date] [bangla_date]
ই-পেপার   [bangla_day] [english_date]

কলাপাড়ায় দুর্যোগে ঝরে গেছে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন
প্রকাশ: 11 November, 2018, 12:11 pm |
অনলাইন সংস্করণ

কলাপাড়ায় দুর্যোগে ঝরে গেছে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন

মিলন কর্মকার রাজু , কলাপাড়া(পটুয়াখালী) ।।
স্কুলের মেধাবী ছাত্র হিসেবে তার পরিচিতি থাকলেও সুজন মুসুল্লী (১৮) এখন জেলে হিসেবে পরিচিত। কলাপাড়ার চরচাপলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সে যখন চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তখন ঘুর্নিঝড় সিডর আঘাত হানে। এক ঝড়ে গোটা এলাকা লন্ডভন্ড করে দেয়। সেই সাথে শেষ করে দেয় তার শিক্ষা জীবন।
২০০৭ সালের পর একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার শতশত স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে গেছে। দু’একজন পরিবার ও অন্যের সহায়তায় ঘুরে দাড়ালেও সুজনের মতো বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকেই বেছে নিতে হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের কাজ।
কাউয়ার চর গ্রামের সাফিজুলের ইচ্ছা লেখা পড়া করার। কিন্তু এখন বয়স ১৬ তাই স্কুলে ভর্তি ও পড়া লেখা হচ্ছে না। সাফিজুল বলেন, যহন গায়ে একটু জোড় হইছে হেই থেকে বাবার লগে মাছ ধরতে গেছি। হারাদিন সাগরে থাকতাম। রাইতে আইয়া ঘুমাইয়া পড়ি। ল্যাহাপড়া করমু কোন সময়। খুব ইচ্ছা করে ইসকুলে যাইতে,কিন্তু মুই বড় দেইখ্যা কোন ইসকুলেই মোরে আর ভর্তি নেয় না।
সাফিজুলের বাবা হাসান হাওলাদার বলেন, সাফির (সাফিজুল) লাইগ্যা তখন আদর্শ লিপি বই, ল্যাখার জন্য কাঠের সিলাট কিইন্না আনছিলাম। অর মা কয়েকদিন পড়াইছেও। কিন্তু হেইয়ার পরই ঝড় এ কথা বলে থেমে যান।
দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলেন, ওই রাইতে ( ২০০৭ সালে সিডরের রাতে) মুহুর্তের মধ্যে ঘরডা উড়াইয়া লইয়া যায়। পানিতে তলাইয়া যায় চাইরদিক। কোনরহম কোলে কইর‌্যা সাফিজুলরে লইয়া বান্দের উপর উইট্রা জানডা বাছাই। পরদিন বাড়িতে আইয়া দেহি শূন্য ভিটা। সব শ্যাষ। তখন তিনডা মাইয়া পোলাই ছোড আছিলো। ঘর-দুয়ার আছিলো না। দুইডা খাওয়ার লাইগ্যা যুদ্ধ করতে হইছে। তাই আর হয়নি অগো ল্যাহাপড়া।
কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিলো শাহীন মুন্সী। স্বপ্ন ছিলো উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে চাকুরি করা। কিন্তু ঘুর্নিঝড় সিডর তার সব স্বপ্ন ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। ২০০৭ সালের সিডরের জলোচ্ছাস তাদের নিঃস্ব করে দিয়ে গেছে। সিডরের জলোচ্ছাসে দুটিই দোকান সহ তাদের কুয়াকাটা আদর্শ গ্রামের তাদের বসত ঘরটিও ভাসিয়ে নিয়ে যায়। সেই থেকে আর স্কুলে যাওয়া হয়নি শাহীনের।
শাহীনের পিতা দেলোয়ার মুন্সী বলেন, পোলাডার মাথা ভালো আছিলো। ইসকুলের ছারের সবাই অরে ভালো পাইতো। কিন্তু কি আর করমু,সিডরের পর মোগো না আছিলো মাথা গোঁজার জায়গা, না আছিলো দুইডা খাওয়ার টাহা। গত ১০ বছরে গায়ে খাইট্রা একটা ছোট্র ঘর করছি মাইনষের জায়গায়। কিন্তু শ্যাষ করছি পোলা মাইয়াগো ল্যাহাপড়া।
কুয়াকাটার শাহীন মুন্সী ,কাউয়ার চর গ্রামের সুজন মুসুল্লী। একজন কুয়াকাটা সৈকতে ছাতা ও বেঞ্চের ব্যবসা ও অন্যজন সাগরে মাছ শিকার করে। এই দুই মেধাবী ছাত্র লেখাপড়া করলে শাহীন এখন মাষ্টার্সে পড়তো আর সুজন এইচএসসি পরীক্ষা দিতো। কিন্তু ঘুর্নিঝড় সিডর কেড়ে নিয়েছে তাদের শিক্ষা জীবন। আর কাউয়ার চর গ্রামের সাফিজুল তো স্কুলের বাড়ান্দায়ই যেতে পারেনি। তাদের আক্ষেপ যদি দূর্যোগ না হতো তাহলে হয়তো আমরা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারতাম।
২০০৭ সালের সিডর তান্ডবে কলাপাড়ার শতশত স্কুলগামী শিশু-কিশোরের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। বিধ্বস্ত উপক‚লে নতুন করে সবকিছু শুরু করতে হওয়ায় সিডরে ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারের ছেলেরা এখন কেউ মাছ ধরে, কেউ এখন কৃষক,কেউবা নির্মান শ্রমিক। আর মেয়েরা এখন ২-৩ সন্তানের মা। সিডর এদের শুধু নিঃস্বই করেনি, নিভিয়ে দিয়ে গেছে গ্রামীন জনপদের ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারগুলোর শিক্ষার আলো। তবে শিক্ষা অফিসে এই ঝরে পড়ার সঠিক কোন পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
কাউয়ার চর গ্রামের শিক্ষিকা হোসনে আরা ইয়াসমিন জানান, সিডরের পর এই গ্রামের স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা আর স্কুলে যায়নি। গত কয়েক বছরে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্কুলগামী ছেলে-মেয়েদের স্কুলে ভর্তি করার জন্য উদ্ধুদ্ধ করছেন। এখন অধিকাংশ পরিবারের শিশুরা স্কুলে গেলেও সিডরের আঘাতে অনেক ছেলে-মেয়ের শিক্ষাজীবন শেষ হয়ে গেছে।
কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সিডরের পর ওই সময়ে দায়িত্বরতরা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে পাঠাতে বিভিন্ন কর্মসূচী নিয়েছিলো। সরকারি-বেসরকারি সহায়তায় এখন আর ৫-১০ বছর বয়সী শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় না গিয়ে স্কুলগামী হচ্ছে। তবে সিডরে কিছু শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ঝরে গেছে বলে স্বীকার করেণ।

Spread the love




এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদসমূহ

সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদকঃ দেলওয়ার হোসেন
নির্বাহী সম্পাদকঃ এস এম মোশারফ হোসেন মিন্টু
বার্তা সম্পাদকঃ
 
মোবাইল- 01711102472
 
Design & Developed by
  কলাপাড়ায় বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মানকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের উপর হামলা,অর্ধশত গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা।।   “পায়রা বন্দরের মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশকে আমরা পরিবহন সেবা দিতে চাই” নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী   পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মঙ্গলবার ৪টি আনলোডার মেশিন যুক্ত হয়েছে।। ৬৩ ভাগ কাজ সম্পন্ন   ঘুরে দাঁড়িয়েছে বন্দর   কলাপাড়ায় জমি অধিগ্রহন না করার দাবিতে কৃষক ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন   ‘পায়রা সমুদ্র বন্দর বানিজ্য সম্ভাবনার নতুন দরজা”-পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের শ্লোগান   পায়রা বন্দরে ২০২১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে ২২ হাজার কোটির টাকার মধ্য মেয়াদী প্রকল্প   নতুন পায়রা সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ